দেশের তীর্থস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম জগন্নাথ মন্দির। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভারতের চার কোণে অবস্থিত চারটি প্রধান তীর্থক্ষেত্র উত্তরে বদ্রীনাথ, দক্ষিণে রামেশ্বরম, পশ্চিমে দ্বারকা, পূর্বে পুরী পরিদর্শন করলে জীবনের সমস্ত পাপ মুক্তি ও মোক্ষ লাভের পথ সুগম হয়। এই চারটি মন্দিরকে কেন্দ্র করেই হাজার বছর ধরে চলে আসছে তীর্থযাত্রার ঐতিহ্য। প্রায় ১২০০ বছর আগে আদি শঙ্করাচার্য ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। । তিনি বিশ্বাস করতেন, এসব স্থানে ধর্ম রক্ষার জন্য যুগে যুগে ঈশ্বর অবতীর্ণ হয়েছেন এবং হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। চার ধামের মধ্যে পুরী অন্যতম ধাম।
বলা হয়, শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথ অবতারে পুরীর মন্দিরে অধিষ্ঠান করেন। শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং ছোট বোন সুভদ্রা একইসঙ্গে অধিষ্ঠান করেন। প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে অনেক অজানা রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। সামনেই রথযাত্রা, জগন্নাথ মন্দিরে ধুমধাম করে রথযাত্রা উৎসব পালন করা হয়। এই সময় পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। তবে সারা বছরেই মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে।
পুরী মন্দিরের ইতিহাস
১১৬১ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ পুরীর জগন্নাথ মন্দির অবন্তীর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী এই মন্দিরে ১৮ বার লুঠ ও আক্রমণ করা হয়। সময়ে সময়ে ওড়িশার বিভিন্ন রাজারা জগন্নাথ মন্দিরের সংস্কার করেন। এই মন্দির কলিঙ্গ স্থাপত্যের নিদর্শন। মন্দিরের ঘটনাবলীর বিবরণ ‘মাডালা পঞ্জী’-তে এই লুঠ ও আক্রমণের উল্লেখ রয়েছে। বর্তমান জগন্নাথ মন্দিরের নির্মাণ ১২শ শতকে পূর্ব গঙ্গ রাজবংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গদেব শুরু করেন এবং পরবর্তীতে অনঙ্গভীম দেব তা সম্পূর্ণ করেন। পুরাণে অবশ্য রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে প্রথম জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্দিরের প্রবেশপথ ও যম শিলা
জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশের মোট ৪টে দরজা রয়েছে। পূর্ব দুয়ার সিংহ দুয়ার, পশ্চিম দুয়ার ব্যাঘ্র দুয়ার, উত্তর দুয়ার হস্তি দুয়ার, দক্ষিণ দুয়ার অশ্ব দুয়ার নামেও পরিচিত। কারণ প্রত্যেক দুয়ারের উপর নাম অনুসারে বাঘ, হাতি, ঘোড়া ও সিংহের মূর্তি বসানো রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, পূর্ব দুয়ার দিয়ে সাধারণ মানুষ,উত্তর দুয়ার দিয়ে মুক্তির কামনা করা ব্যক্তি, পশ্চিম দুয়ার দিয়ে তন্ত্র সাধক আর দক্ষিণ দুয়ার দিয়ে রাজাদের মন্দিরে প্রবেশ করা উচিত।
পূর্ব দুয়ার বা সিংহ দুয়ারের ৩ নম্বর সিঁড়িতে কালো শিলা রয়েছে যা যম শিলা নামে পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী জগন্নাথ দর্শনের পর মানুষের সব পাপ ক্ষয় হয় এবং তাঁরা প্রত্যেকে স্বর্গ লাভ করেন। লোককথা অনুসারে, যমরাজ তখন প্রভু জগন্নাথকে নালিশ করেন ‘‘ প্রভু আপনার দর্শনের পর অতি বড় পাপীও স্বর্গে যাচ্ছেন, এটা তো ঠিক নয়’’। তখন জগন্নাথ ঠিক করেন, যে মন্দিরের প্রবেশ পথে যম শিলা রাখা হবে, মন্দির প্রবেশের সময় যদি এই শিলায় পা পড়ে তাহলে জগন্নাথ দেবের দর্শনের পর সেই পাপ থেকে মুক্তি মিলবে তবে মন্দির থেকে বেরনোর সময় যদি কোনওভাবে সেই যম শিলায় ভক্তদের পা পড়ে তাহলে সে জগন্নাথ দর্শনের পর যে পুণ্য অর্জন করেছে তা নষ্ট হয়ে যাবে।
রান্নাঘর ও ভোগ রন্ধনের কৌশল
দক্ষিণ দুয়ার দিয়ে প্রবেশের পর মূল মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশের আগে ডানদিকে রয়েছে রসাঘরা বা রান্নাঘর। মন্দিরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত এই রন্ধনশালা। এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম এবং অন্যতম প্রাচীন মন্দিরের রান্নাঘর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জগন্নাথ দেবের ভোগে পিঁয়াজ,রসুন আর আলু,লাউ-এর ব্যবহার করা হয়না। প্রত্যেকটি খাবারের পদ মাটির পাত্রে রান্না করা হয়। জগন্নাথের জন্য বানানো হয় ৫৬ রকমের ভোগ। মাটির তৈরি উনুনে কাঠের আঁচ দিয়ে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র করে পরপর ৭টি পাত্র বসিয়ে আজও এভাবে রান্না সম্পন্ন হয়। তিন রকম উনুন যথা অন্ন চুল্লি, আহিয়া চুল্লি ও পিঠা চুল্লিতেই রান্না করেন সেবাইতরা। অন্নচুল্লিতে রান্না হয় অন্ন ভোগ। দুটি অন্ন চুল্লির মাঝে আহিয়া চুল্লি সেখানে ডাল ও তরকারি জাতীয় ভোগ রান্না করা হয় আর পিঠা চুল্লিতে রান্না করা হয় মিষ্টি জাতীয় ভোগ। রান্নাঘরের কাছে গঙ্গা ও যমুনা দু’টো কুয়ো রয়েছে সেখানকার জল দিয়ে রান্না করা হয়।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, মন্দিরের এই পবিত্র রন্ধনশালায় দেবী মহালক্ষ্মী নিজেই ছদ্মবেশে রান্না করেন। তাই তাঁকেই এই রান্নাঘরের প্রধান রন্ধনশিল্পী বা প্রধান পাচিকা হিসেবে মানা হয়। সেই কারণেই এখানে খাদ্য প্রস্তুতের পুরো প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জন রাঁধুনি এবং ৫০০ জন সহকারী দেবদেবীর ভোগ প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, তাঁরা সকলেই দেবী মহালক্ষ্মীর সহযোগী হিসেবে এই পবিত্র কাজে অংশ নেন।
মন্দিরের নথি অনুযায়ী, প্রধান রাঁধুনিদের ‘সুয়ারা’ বলা হয়। মন্দিরের রান্নাঘরের উনুনে শুধুমাত্র সুয়ারারাই রান্না করার অনুমতি পান। তাঁদের সহকারীদের দায়িত্ব ও রান্নাঘরে প্রবেশাধিকারের ভিত্তিতে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যাঁদের রান্নাঘরের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, তাঁদের বলা হয় ‘জোগানিয়া’। আর যাঁদের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নেই, তাঁদের বলা হয় ‘তুনিয়া’।
জোগানিয়াদের প্রধান দায়িত্ব হল কুয়ো থেকে জল আনা, মাটির হাঁড়ি ধোয়া ও পরিষ্কার করা এবং সেই হাঁড়িগুলিতে কাঁচা চাল, ডাল, শাকসবজি-সহ রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ ভরে দেওয়া।
অন্যদিকে, তুনিয়ারা মন্দিরের রান্নাঘরের বাইরের খোলা প্রাঙ্গণে কাজ করেন। তাঁরা কাঁচা উপকরণ ধোয়া, শাকসবজি কাটা, মশলা বাটা এবং নারকেল কোরানোর মতো বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজে প্রধান রাঁধুনিদের সহায়তা করেন।
এছাড়াও, আরও একটি বিশেষ শ্রেণির সেবায়েত রয়েছেন, যাঁদের ‘মহাসুয়ারা’ বলা হয়। তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হল রান্নাঘর থেকে প্রস্তুত ভোগ, ভোগ মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়া, যেখানে তা দেবদেবীর উদ্দেশে নিবেদন করা হয়।
এমনকি ভোগ রান্নার আগে সেবাইতরা পেট ভরে খাবার খান যাতে রান্না করার সময় কোনও রকম লোভ, লালসা না আসে। যদি কোনও রকম বাধা পড়ে বা মা লক্ষ্মী অসন্তুষ্ট হন তাহলে আবার নতুন করে ভোগ রান্না করতে হয়। প্রচলিত আছে রান্নায় কোনও ত্রুটি দেখা দিলে রান্নাঘরে কুকুরের ছায়া দেখা যায়। রান্নাঘরে জ্বালানি হিসেবে শুধুমাত্র কাঠের ব্যবহার করা হয়। রান্নাঘরের আগুন বৈষ্ণব আগুন নামে পরিচিত। বাষ্পে রান্না করা প্রসাদ প্রথমে জগন্নাথ দেব তারপর জগন্নাথ দেবের মা বিমলা দেবীকে নিবেদন করা হয় তাই মহাপ্রসাদে পরিণত হয়। এমনকি প্রচলিত আছে প্রভুকে খাবার দেওয়ার আগে পর্যন্ত খাবারের কোনও গন্ধ পাওয়া যায় না, ভগবানকে নিবেদন করার পর প্রসাদ ভক্তদের নিয়ে যাওয়া হলে সুস্বাদু গন্ধ বাতাসে মম করে।
বিশ্বের বৃহত্তম মন্দিরের রান্নাঘর বলা হয় কেন?
রান্নাঘরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ ফুট।
প্রস্থ প্রায় ১০০ ফুট।
উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট।
এখানে মোট ৩২টি কক্ষ রয়েছে।
রান্নার জন্য রয়েছে ২৫০টি উনুন
এই রান্নাঘরের পবিত্র আগুন কখনও নিভানো হয় না
প্রতিদিন রান্নার জন্য নতুন মাটির হাঁড়ি ব্যবহার করা হয়।
প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ জন রাঁধুনি ও সহকারী এখানে সেবার কাজে নিয়োজিত থাকেন।
এই রান্নাঘরে মিক্সার, কাটার, গ্রাইন্ডার, বিদ্যুৎচালিত বা গ্যাসের চুলা—কোনও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় না। আজও ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতেই সমস্ত রান্না সম্পন্ন হয়।

প্রসাদ
জগন্নাথ দেবকে ভোগ নিবেদনের পর সেই ভোগ আনন্দবাজারে ভক্তদের জন্য বিক্রি করা হয়। আনন্দবাজার সিংহদুয়ার দিয়ে প্রবেশ করে মূল ফটকের ডানদিকে অবস্থিত। কথিত আছে, প্রতিদিন যত সংখ্যক পুণ্যার্থী আসুক না কেন, সকলেরই প্রসাদ পান। ভক্তদের বিশ্বাস, পুণ্যার্থীর যত সংখ্যাই হোক না কেন, প্রসাদ কখনো শেষ হয় না। শোনা যায়, প্রভুর কাছে নিবেদিত প্রসাদ একফোঁটাও নষ্ট হয়না!
প্রসাদ দু’ রকমের অন্ন প্রসাদ মানে ভাত, ঘি ভাত, মিষ্টি ডাল, তরকারি। শুকনো প্রসাদ রয়েছে খাজা, পিঠে ও মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য।
রত্নভাণ্ডার
মন্দিরের গোপন কক্ষে সাতটি ঘর আছে। সেই ঘরগুলিই হল রত্নভাণ্ডার। এটি দুটি ভাগে বিভক্ত বহির্ভাণ্ডার ও ভিতরের ভাণ্ডার। সেখানে রাখা আছে জগন্নাথ দেবের মুকুট ও তিনটি সোনার কণ্ঠ হার যা ‘হরিদাকণ্ঠী মালি’ নামেও পরিচিত। জগন্নাথ ও বলভদ্রের সোনার হাত ও পাদুকা।হিরে জহরত দিয়ে তৈরি থালা রয়েছে । ২০২৪ সালের আগে অনুমান ছিল, রত্নভাণ্ডারে মজুত রয়েছে ১২৮ কেজি ওজনের সোনা এবং ২২১ কেজি ওজনের রুপো। যদিও রত্নভাণ্ডারের সরকারি তথ্য এখনও পুরোপুরি প্রকাশ হয়নি। ৪৬ বছর পর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রত্নভাণ্ডারের দরজা খোলা হয়। বহির্ভাণ্ডারের যাবতীয় জিনিস অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নতুন একটি তালা লাগানো হয়েছে। সেই চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে। এর আগে ১৯৭৮ সালে রত্নভাণ্ডার খোলা হয়।
প্রতি বিজয়াদশমী, কার্তিক পূর্ণিমা, পৌষ পূর্ণিমা এবং মাঘী পূর্ণিমার দিন শ্রীক্ষেত্রে ভক্তদের সামনে রাজবেশে দর্শন দেন মহাপ্রভু।
জগন্নাথ মন্দির ও স্নানযাত্রা
আষাঢ়ের পূর্ণিমা তিথিতে অর্থাৎ দেবস্নান পূর্ণিমাতে পালিত হয় জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। ওই দিন জগন্নাথের আবির্ভাব দিবস হিসেবে অনেক ভক্ত পালন করেন । হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের খুবই পবিত্র উৎসব স্নানযাত্রা। জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা এবং মদনমোহনের বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে গর্ভগৃহ থেকে স্নানবেদিতে আনা হয়, স্নানযাত্রার দিন কূপের জল মন্ত্র দ্বারা শুদ্ধ করে ১০৮ কলস জলে বিগ্রহ স্নান করানো হয়। স্নানপর্বের পর গজবেশে সাজানো হয়। এই উৎসবকালে প্রভু জগন্নাথের দর্শন করলে সকল পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস। স্নানযাত্রার পর শুরু হয় ‘অনসর’। এই অনসরকালে জগন্নাথদেব অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকেন।
স্নানযাত্রার পর ১৫ দিন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে একটি গোপন কক্ষে রাখা হয়। সেই সময় কোনও রান্না করা ভোগ তাদের নিবেদন করা হয় না। শোনা যায় এই সময় দৈতপতি তাদের সেবা যত্ন করেন। কোনও ভক্তরা এই সময় প্রভুর দর্শন পান না। এইসময় প্রভুর দর্শন পেতে আলারনাথ মন্দিরে ভক্ত সমাগম হয়। রথযাত্রার আগের দিন জগন্নাথ,বলভদ্র ও সুভদ্রাকে দেখতে পান তাঁর ভক্তরা। যা নবযৌবন নামে খ্যাত।
স্কন্দপুরাণ মতে ,পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর স্নানযাত্রা অনুষ্ঠানের প্রচলন করেন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন।
নবকলেবর
চন্দ্রমাস অনুযায়ী আষাঢ় মাসে ৮ , ১২ এবং ১৯ বছর পর নবকলেবর পালন করা হয়।৷ নবকলেবর অর্থাৎ নতুন দেহ। ২০১৫ সালে নবকলেবর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শাস্ত্রমতে জগন্নাথ দেবের মূর্তি নির্মাণে দারু-ব্রহ্ম বা পবিত্র নিমগাছ ব্যবহার করা হয়। জগন্নাথ দেবের নবকলেবর যখন হয় তখন জগন্নাথ দেবের পুরনো মূর্তি থেকে ব্রহ্ম পদার্থ বা দারু-ব্রহ্ম নতুন মূর্তিতে স্থানান্তরিত হয়। এই সময় পুরোহিতের চোখ বেঁধে এবং হাতে দস্তানো পরানো থাকে। বিশ্বাস করা হয়, এই সময় কেউ যদি চোখ খুলে ফেলেন তাহলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে, এমনকি তার মৃত্যু অবধি হতে পারে।
জগন্নাথ মন্দির ও কিছু রহস্য

জগন্নাথ মন্দিরের কিছু রহস্য রয়েছে যার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া দুষ্কর। পুরীর মন্দির প্রায় ৪৫ তলা বাড়ির সমান উঁচু। ভক্তদের মধ্যে এমন একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে, মন্দিরের চূড়ার উপর যে ধ্বজা রয়েছে সেটি সব সময় হাওয়ার বিপরীত দিকে উড়তে থাকে।
পুরীর মন্দিরের উপরে প্রায় ১৫০ কেজি ওজনের একটি সুদর্শন চক্র রয়েছে। যে কোনও প্রান্ত থেকে যে কেউ ওই চক্রের দিকে তাকান, মনে হবে চক্রটি তাঁর দিকেই ঘোরানো।

লোকমুখে প্রচলিত, জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে সমুদ্রের গর্জন শোনা গেলেও মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করা মাত্র সমুদ্রের গর্জন, ঢেউয়ের কোনও শব্দ শোনা যায় না। কথিত আছে, দেবী সুভদ্রা চেয়েছিলেন মন্দিরের ভিতর নীরবতা বজায় থাকবে। তাই মন্দিরের ভিতর সমুদ্রের শব্দ শোনা যায় না।Raise Your Concern About this Content
জগন্নাথ মন্দির ও রথযাত্রা
পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল ভারতবর্ষেই নয়, সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে অনন্য। জগন্নাথদেব, বলভদ্রদেব ও সুভদ্রা মহারাণীকে যখন শ্রীমন্দির থেকে বের করে সুসজ্জিত রথে স্থাপন করা হয়, তখন প্রভুকে দর্শন করার জন্য ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের জন্য লক্ষ লক্ষ লোক সেখানে জমায়েত হয়।

রথের বৈশিষ্ট্য
জগন্নাথ দেবের রথের নাম নন্দীঘোষ, বলভদ্রের রথের নাম তালধ্বজ এবং সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন।
প্রত্যেক রথের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জগন্নাথ দেবের রথে ১৬টি চাকা রয়েছে এবং এটি লাল ও হলুদ রঙের কাপড় দিয়ে সাজানো হয়। দয়িতাপতি জগন্নাথের রথ টানার দড়ির নাম শঙ্খচূড়া। বলভদ্রের রথে ১৪টি চাকা রয়েছে এবং এটি লাল ও নীল রঙের কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকে। আর শুভদ্রার রথ দর্পদলনে ১২টি চাকা রয়েছে এবং এটি লাল ও কালো রঙের কাপড়ে ঢাকা থাকে।
পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দির ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এক অনন্য প্রতীক। এই মন্দির ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ।
তথ্যসূত্র
১. নিজস্ব অভিজ্ঞতা
২. উইকিপিডিয়া
৩. শ্রীক্ষেত্র
৪. পুরী জগন্নাথ মন্দির ইতিহাস
৫. আউটলুক ইন্ডিয়া



